বিবর্তন অরুণাচল দত্তচৌধুরী

মানুষটা খুব ভীতু, সদা ভয়ে কাঁপত
পাছে কেউ দোষ ধরে দেয় কড়া বকুনি।
ছোটখাটো কাজও তার থাকে অসমাপ্ত।
কেউ দেখে ফেললেই লুকোয় সে তখুনি।

 

প্রতিদিন কাটাত সে নিজস্ব গর্তে
ঘুম ঘুম ছায়াভরা নিরাপদ আঁধারে।
যেন তেন প্রকারেণ বাঁচবার শর্তে
জানালা বন্ধ তার ডাইনে বা বাঁ ধারে।

 

পাহাড় বা মরুভূমি উত্তাল সাগরে
যারা যেতে চায় যাক, সে কখনও যায় না।
প্রতিবিম্বটি যদি বলে, “ভাই জাগো রে!”
এই ভয়ে সে ভেঙেছে সবেধন আয়না।

 

গতকাল সে দেখল পথিক জনৈক
দুর্ঘটনায় পথে পড়ে… রক্তাক্ত
“কে ওকে বাঁচাতে যাবে? আমি বাবা নইকো”
আগে হলে সে নিজেকে বোঝাতেই থাকত।

 

কিন্তু ঘটল কী যে, সে ক্রান্তি বেলাতে
ঝাঁপিয়ে পড়ল ভীতু, তা নাহলে এখুনি
আহতটি মারা গেলে বৃথা অবহেলাতে
পৃথিবী আঙুল তুলে বলবেই… সে খুনি।

 

এই ভাবে এক ভীতু মানুষের গল্প
হঠাৎ নিয়েছে বাঁক ঘটনার মোচড়ে।
এখন পকেটে তার রাশি সঙ্কল্প
আকাশ কুসুম তার স্বপ্নের কোঁচড়ে।

বিবর্তন অরুণাচল দত্তচৌধুরী

ছবি – দোগন পদ্দিস

To Top