তাপস মৌলিক শেয়াল গেল বনে

এক গ্রামের এক গেরস্থের বাড়ি ছিল অনেক পোষা মুরগি।
বাড়ির পেছনে ছিল একটা বাঁশবন। সেখানে থাকত এক শেয়াল।
একদিন বিকেলবেলা, গেরস্থের গিন্নি উঠোনে দানা ছড়িয়ে দিয়েছে, মুরগিরা সেই দানা খেতে ভীষণ ব্যস্ত, সেই ফাঁকে শেয়াল গিয়ে ঢুকল মুরগিদের ঘরে।
ঢুকে দেখে, বাঃ, বেশ কতগুলো ডিম পড়ে আছে দেখছি। খিদেয় তখন শেয়ালের পেট চোঁ চোঁ করছে। সে কপাকপ কপাকপ আট-দশটা ডিম গিলে ফেলল। তারপর হেলতে দুলতে, ঢেঁকুর তুলতে তুলতে ফিরে গেল বাসায়। অনেকদিন পর আজ বেশ পেট ভরে খাওয়া গেল।
ওদিকে সন্ধেবেলা মুরগিরা ঘরে ফিরে দেখে ডিম-টিম হাওয়া। তারা খুব খানিক কোঁকর কো কোঁকর কো করল, কিন্তু ডিমগুলো গেল কোথায় কিছুই বুঝল না।
শেয়াল তো গর্তের ভেতর ঢুকে, পেটে হাত বোলাতে বোলাতে আরাম করে ঘুমিয়ে পড়ল। ঘোঁত ঘোঁত করে নাক ডাকছে তার।
রাত গভীর হল। হঠাৎ শেয়ালের ঘুমটা গেল ভেঙে। পেটটা কেমন আইঢাই করছে যেন। হঠাৎ পুটুস করে একটা আওয়াজ, তারপর খসমস খসমস শব্দ। আওয়াজটা হল কোথায়? একটু পরে আবার পটাস, আবার খসখস খরখর। তিনবারের বার শেয়াল বুঝল আওয়াজটা আসছে তার পেটের ভেতর থেকে। হয়েছে কী, শেয়ালের পেটের ভেতর বেশ গরম পেয়ে সেই ওমে ডিমগুলো সব ফুটতে শুরু করেছে, আর একটা একটা করে বেরিয়ে আসছে মুরগিছানা, ঘুরে বেড়াচ্ছে পেটের ভেতর।পরদিন সকালে মুরগিরা দেখে, তাদের ঘর থেকে শেয়ালের পায়ের ছাপ চলে গেছে বাঁশবন অবধি। দেখে তো তারা বুঝে গেল ডিমচুরি কার কাজ! মিছিল করে কোঁকর কো কোঁকর কো করতে করতে তারা চলল শেয়ালের কাছে, হাতে ঝান্ডা, মুখে স্লোগান।
‘ডিম চুরি করল কে?
শেয়াল ছাড়া আবার কে?
চুরি কেন জবাব দাও,
ডিমগুলো সব ফেরত দাও।
মোদের ডিম মোদের ছানা,
নজর দেওয়া পষ্ট মানা।’
মুরগিদের ডাকাডাকিতে কিছুক্ষণ পরে শেয়াল গর্ত থেকে মুখ বার করল, “ক্যা হুয়া? ক্যা হুয়া?”
“এইও! আবার ভালোমানুষের মতো বলা হচ্ছে কেয়া হুয়া! কেয়া হুয়া তুমি জানো না? আমাদের ডিমগুলো সব ফেরত দাও বলছি ভালোয় ভালোয়। নইলে আন্দোলন চলছে, চলবে।”
“তোমাদের ডিম? আরে রাম রাম! তোমাদের ডিম আমি চুরি করব কোন দুঃখে? ওইটুকু-টুকু ডিমে কি আমার পেট ভরে? বয়েই গ্যাছে তোমাদের ডিম খেতে। আমার কি খাওয়ার অভাব? এই তো কাল রাতে মন্ত্রীর ছেলের বিয়ের নেমন্তন্ন ছিল। জব্বর খাইয়েছে। এত খেয়েছি, কী বলব, এখনও ঢেঁকুর উঠছে।”
এই বলে শেয়াল হেউ করে বিশাল এক ঢেঁকুর তুলল। আর সেই ঢেঁকুরের সঙ্গে তার মুখ থেকে ফুড়ুৎ করে বেরিয়ে এল ছোট্ট এক মুরগিছানা।
শেয়াল ভারী অপ্রস্তুত হয়ে ব্যাপারটা সামাল দেবার জন্য বলল, “এই রে! এই ছানাটা আবার এল কোথা থেকে? কখন এসে আমার গর্তের ভেতর লুকিয়ে ছিল দ্যাখো।”
বলতে না বলতেই ফের বিরাট এক ঢেঁকুর, তার সঙ্গে আরও দুটো মুরগিছানা বেরিয়ে সোজা তাদের মায়ের কোল ঘেঁষে জুটল।
“আরে আরে, দ্যাখো কতগুলো ছানা এসে সেঁধিয়েছে আমার গর্তে!”
মুরগিরা একসঙ্গে কলরব করে উঠল, “ইঃ, আমাদের কি গাধা পেয়েছ নাকি? আমরা কিছু বুঝি না? পষ্ট দেখছি ছানাগুলো তোমার মুখ থেকে বেরোচ্ছে!”
শেয়াল চেপে মুখ বন্ধ করে প্রাণপণ চেষ্টা করল যাতে ফের ঢেঁকুর না ওঠে, কিন্তু তার পেটের ভেতর মুরগিছানারা তখন বাইরে তাদের মায়ের গলা শুনে ফেলেছে, বেরোবার রাস্তাও চিনে গেছে। একের পর এক ঢেঁকুরের সঙ্গে ফুরফুর ফুরফুর করে বাকি ছানাগুলোও বেরিয়ে এল বাইরে।
ছানা ফেরত পাওয়ার খুশিতে হৈচৈ করতে করতে মুরগির দল ফিরে গেল ঘরে। শেয়াল মনমরা হয়ে গর্তে বসে রইল।বাড়ি ফিরে একটা চালাক মুরগির মগজে একটা বুদ্ধি গজাল। সে ভাবল, ব্যাপারটা তো মন্দ নয়! রোজ যদি শেয়াল এসে ডিমগুলো খেয়ে যায়, আর পরদিন সকালে গিয়ে তার পেট থেকে ছানাগুলো বার করে আনা যায়, তাহলে প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘণ্টা ডিমের ওপর বসে তা দিতে হয় না। বিকেলে সাজুগুজু করে একটু হাওয়া খেতে বেরোনো যায়; সবাই মিলে একটু হাসিঠাট্টা, গল্পগুজব, খেলাধুলো করা যায়।
আইডিয়াটা সে অন্য মুরগিদের শোনাল। সবাই তো এককথায় রাজি, “হ্যাঁ হ্যাঁ, দারুণ হবে। রোজ রোজ কাঁহাতক বসে বসে তা দেওয়া যায়! প্রচণ্ড একঘেয়ে ব্যাপার। চলো, আজ ফের শেয়ালকে নেমন্তন্ন করে আসি।”
দু-একটা ভিতু মুরগি অবশ্য বলল, “না বাবা, আমরা ওর মধ্যে নেই। শেষে যদি শেয়াল ডিমগুলো হজম করে ফেলে?”
অন্য মুরগিরা সবাই মিলে তাদের দাবড়িয়ে দিল, “ঠিক আছে, দরকার নেই তোমাদের যাওয়ার। থাকো তোমরা ঘরে বসে, তা দাও বেশ করে। ভিতুর ডিম কোথাকার!”পরদিন সকালে মুরগির দল ফের মিছিল করে চলল শেয়ালের বাসায়।
“শেয়াল ভায়া, শেয়াল ভায়া, আছো নাকি?”
শেয়াল গর্ত থেকে মুখ বার করে বলল, “ক্যা হুয়া? ক্যা হুয়া?”
“বলছি, আজ সন্ধেবেলা আমাদের বাড়িতে তোমার নেমন্তন্ন, ডিম খাওয়ার। তুমি ডিম খেতে খুব ভালোবাসো কিনা!”
শেয়ালের তো শুনেই জিভ থেকে লালা ঝরতে লাগল। তাও সে গম্ভীর হয়ে বলল, “খুব মুশকিলে ফেললে গো তোমরা! আজ যে পণ্ডিতমশাইয়ের নাতির অন্নপ্রাশনে আমার নেমন্তন্ন।”
“তা, অন্নপ্রাশনের খাওয়া তো দুপুরবেলা! আমাদের নেমন্তন্ন হল সন্ধেয়। কোনও কথা শুনছি না ভায়া, যেতেই হবে তোমায়।”
“বেশ, কী আর করা! যেতেই হবে বলছ যখন, যাব না হয়।”সন্ধে হতে না হতে শেয়াল হাজির মুরগিদের ঘরে। ভিতু মুরগিগুলো ভয়ে ভয়ে তাদের ডিম আগলে বসে রইল। আর বাকিরা মহা উৎসাহে শেয়ালকে আদরযত্ন করে তাদের ডিম খাইয়ে দিল।
শেয়ালের সেদিন খাওয়া জোটেনি। জুটবে কী করে? সারাদিন তো পড়ে পড়ে ঘুমোয়!
খিদের মুখে প্রায় একডজন ডিম কপাকপ গিলে ফেলল সে। মুখে অবশ্য বলে চলল, “ওফ, এত খাওয়া যায় নাকি? দুপুরে পণ্ডিতমশাই যা খাইয়েছেন! তার ওপর আবার তোমাদের নেমন্তন্ন।”
খেয়েদেয়ে পেট ফুলিয়ে শেয়াল চলল গর্তে, আর মুরগিরা দল বেঁধে চলল সিনেমা দেখতে।
গভীর রাতে ফের শেয়ালের পেটে শুরু হল খসখস, খড়মড়, ফরফর। পেট ভরে খাওয়ার আমেজে শেয়াল তখন গভীর ঘুমে। তার ঘুম ভাঙল না।পরদিন ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে মুরগির দল কোঁকর কো কোঁকর কো করতে করতে হাজির। সে ডাক শুনেই ডিম ফুটে বার হওয়া মুরগিছানারা লাইন দিয়ে বেরিয়ে এল শেয়ালের পেট থেকে, একের পর এক ঢেঁকুরের সঙ্গে।
খুশি মনে মুরগিরা সেদিন সন্ধেবেলার জন্যও শেয়ালকে নেমন্তন্ন করে ছানা-টানা আগলে নিয়ে ফিরে গেল বাড়ি।
শেয়াল ভেবে দেখল, মজা মন্দ নয়। বিনা পরিশ্রমে রোজ সন্ধেবেলা যদি এমন পেট ভরে ডিম খাওয়া জোটে, রাতে জবরদস্ত ঘুম হয়, তাহলে আর চাই কী? সারাদিন আয়েস করে গর্তের ভেতর শুয়ে-বসেই কাটানো যায়। সূর্য ডুবতে না ডুবতেই হেলতে দুলতে চলল সে মুরগিদের বাসায়।
এদিকে ভিতু মুরগিগুলোরও মনে সাহস এসেছে। অন্য সবার সঙ্গে তারাও তাদের ডিম শেয়ালের পাতে বেড়ে দিল।
দিনসাতেক এরকম চলার পরে গেরস্থের তো পাগল পাগল অবস্থা! সে বেচারা প্রতিদিন সকালে মুরগির ঘর থেকে ডিম তুলে নিয়ে ঝুড়িতে করে বিক্রি করতে যেত বাজারে। সাতদিন হল সে একটাও ডিম পায় না। সকালে গিয়েই দ্যাখে সবকটা ডিমই ফুটে মুরগিছানা হয়ে গেছে। ডিম বেচেই তার সংসার চলে। সে এখন খায় কী? তার ঘরে চাল বাড়ন্ত, ডাল বাড়ন্ত। সামান্য মুড়ি কেনারও পয়সা ফুরিয়ে এল। মুরগিছানাগুলো বড়ো করে যে বাজারে বিক্রি করবে, তার জন্যও তো তাদের খাবার কিনতে হবে, পয়সা লাগবে! সে গিন্নির সঙ্গে গভীর পরামর্শ করতে বসল।
এদিকে পরপর সাতদিন চুটিয়ে নেমন্তন্ন খাওয়ার পর শেয়াল দেখল, তার আর তেমন খিদে পাচ্ছে না। পেটটা কেমন ফুলে ঢোল হয়ে উঠছে আস্তে আস্তে। আর পেটের ভেতরে সারাক্ষণ কী সব যেন খসখস গজগজ করে। পাশ ফিরলে খচমচ আওয়াজ, চলতে ফিরতে ঘচরমচর। তার সঙ্গে পেটে একটা চিনচিনে ব্যথা। লোভের বশে নেমন্তন্নও ছাড়তে পারছে না সে। সন্ধে হলেই রওনা দেয় মুরগিদের ঘরের দিকে। কিন্তু খাওয়ায় আর তেমন রুচি নেই তার।গিন্নির সঙ্গে পরামর্শ সেরে আটদিনের দিন গেরস্থ ঠিক করল সে পাহারায় বসবে; বিকেল থেকে লুকিয়ে চোখ রাখবে মুরগির ঘরের দিকে। এই রহস্য তাকে উদ্ঘাটন করতেই হবে।
সেইমতো সেদিন মুরগির ঘরের ছাঁচের বেড়ার ফাঁক দিয়ে সে দেখল, শেয়াল এল, ডিম খেল, তারপর হেলতে দুলতে বাঁশবনের দিকে চলে গেল। আর তার পোষা মুরগিরা কিনা আদর করে শেয়ালকে বসিয়ে তার পাতে একের পর এক ডিম বেড়ে দিল।
পরদিন ভোরবেলা মুরগিরা যখন মিছিল করে শেয়ালের গর্তের দিকে রওনা হল, তখন গেরস্থও একটু তফাতে লুকিয়ে লুকিয়ে চলল। হাতে নিল মস্ত এক কাঠকাটা করাত। আজ এর একটা হেস্তনেস্ত করেই সে ছাড়বে! গেরস্থকে অবাক করে দিয়ে মুরগিদের কোঁকর কো ডাকের সঙ্গে সঙ্গে শেয়ালের মুখ থেকে বেরিয়ে এল একের পর এক মুরগিছানা। মুরগিরা সেই ছানাপোনা নিয়ে খুশিতে হৈ চৈ করতে করতে ফিরে চলল বাসায়। শেয়াল ফের গর্তে সেঁধোল।
গেরস্থ একটা মোটা গাছের আড়ালে ওত পেতে রইল, শেয়াল কখন গর্ত থেকে বেরোয় সেই আশায়। সে বুঝে গেছে, এই শেয়ালটাই যত নষ্টের গোড়া, তার যত ভোগান্তির কারণ। একে ভিটেছাড়া না করতে পারলে সে আর কোনওদিন মুরগির ডিম পাবে না।
এদিকে একটু পরেই শেয়ালের প্রচণ্ড পেটব্যথা শুরু হল। সে এমন ব্যথা যে, সে গর্তে শুয়ে শুয়ে গোঙাতে লাগল। একটু নড়াচড়া করলেই পেটে কীসব খচমচ গজগজ আওয়াজ, তার সঙ্গে মারাত্মক ব্যথা। শেয়াল মনে মনে ঠিক করল, ঘাট হয়েছে, অনেক হয়েছে নেমন্তন্ন খাওয়া, আর নয়। ডিম খেতে খেতে তার মুখের রুচিই চলে গেছে। পেটটা ফুলে ঢোল হয়ে থাকে সবসময়।
ব্যথা একটু কমলে পরে শেয়াল ভাবল একবার ডাক্তার দেখিয়ে নিলে হয়। ডিম খেয়ে খেয়ে কী না কী ব্যারাম বাধিয়ে বসেছি। ওষুধ খাওয়া দরকার। গর্ত থেকে বেরিয়ে সে চলল ডাক্তারের চেম্বারে।
গেরস্থ এই সুযোগের অপেক্ষাতেই ছিল। সেও পেছন পেছন লুকিয়ে লুকিয়ে করাত বাগিয়ে চলল।
ডাক্তার শেয়ালকে দেখে পেটটা টিপেটুপেই বললেন, “এক্ষুনি এক্স রে করতে হবে।”
শেয়াল ভয়ে আঁতকে উঠল, “ওরে বাবা রে, এক্স রে! নিশ্চয়ই খুব ব্যথা লাগবে, না ডাক্তারবাবু? মরে-টরে যাব না তো?”
“ধুর বোকা! এক্স রে করলে ব্যথা লাগে নাকি?”
“লাগে না? ইনজেকশন দিলেই তো কী ভয়ানক ব্যথা লাগে, এক্স রে করলে নিশ্চয়ই তার চেয়েও বেশি লাগবে! আমি ইনজেকশন ভয় পাই।”
ডাক্তার গম্ভীরভাবে বললেন, “বাজে কথা বোলো না। ওই টেবিলে চুপচাপ চিত হয়ে শুয়ে পড় গিয়ে।”
এক্স রে প্লেট আলোর সামনে ধরে ডাক্তার বললেন, “এসব পেটের মধ্যে কী? সাদা সাদা। ডিমের খোসার মত! পেট ভর্তি কাগজের কুচি নাকি? কী খেয়েছ তুমি? এ তো এক্ষুনি অপারেশন করে বার করতে হবে দেখছি।”
গেরস্থ এতক্ষণ ডাক্তারের চেম্বারের বাইরে দাঁড়িয়ে চুপিচুপি সব দেখছিল। তাড়াতাড়ি ভেতরে ঢুকে এসে বলল, “হ্যাঁ ডাক্তারবাবু, ডিমের খোসা। এ ব্যাটা রোজ আমার মুরগির ঘরে ঢুকে সব ডিম খেয়ে যায়, ডিম ফুটে ছানাগুলো সব পালিয়েছে, খোসাগুলো জমে আছে পেটে। অপারেশন করবেন তো? এই নিন স্যার, করাত এনেছি।”
এই বলে সে তার ভয়ংকর কাঠকাটা করাতখানা ডাক্তারবাবুর দিকে বাড়িয়ে দিল।
সেই দেখে ভয়ে শেয়ালের তো আত্মারাম খাঁচাছাড়া!
“ওরে বাবা গো, অপারেশন! করাত! মেরে ফেলল গো, কে আছো বাঁচাও… বাঁচাও…” বলতে বলতে টেবিল থেকে লম্ফ দিয়ে নেমে সে ল্যাজ গুটিয়ে পোঁ পা দৌড়।
সেই যে সে একজিট ভেলোসিটিতে ছুটে পালাল, আর কোনওদিন ওই গ্রামের ত্রিসীমানাতেই ঘেঁষেনি। লোকালয় ছাড়িয়ে সোজা গিয়ে ঢুকল গভীর বনে।আগেকার দিনে গ্রামেগঞ্জে গেরস্থবাড়ির আশেপাশে, বাঁশবাগানে শেয়াল-টেয়াল হামেশাই দেখা যেত। এই ঘটনার পর থেকে তারা কেউ মানুষের কাছাকাছি থাকে না আর। সবকটা শেয়াল গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে, আশ্রয় নিয়েছে জঙ্গলে।
ভাগ্যিস! নইলে কাল বিকেলে আমরা যে এগ রোল খেলাম, আজ ব্রেকফাস্টে আমি ওমলেট তুমি ডিমের পোচ খেলে, দুপুরে ঝাল ঝাল লাল ঝোল দিয়ে ভাত মেখে ডিমের ডালনা খেলাম, সেসব বিলাসব্যসন ঘুচে গেছিল আর কী!

ছবি — সুমিত রায়

To Top