সরল দে

রাজকুমারী মান করেছেন, গাঁথেননি ফুল খোঁপাতে
রাগ করে তাই ঠোঁট ফুলিয়ে বসে আছেন সোফাতে।

উদ্ধৃতি ঠিকঠিক হল কিনা, জানি না। সরলদার ছড়া, সরলদার এরকম হরেক ছড়া পড়ে আমি বারবার মুগ্ধ হয়েছি, তখনও সরলদাকে দেখিনি। আমি কবিতাপ্রয়াসী মানুষ। জীবনভর চোখ কান বুজে কেবলই কবিতাকে খুঁজে জ্বলছি পুড়ছি, আবার উড়ছিও এমন মানুষ, ছড়া লেখা, নেহাতই বন্ধুবান্ধবদের অনুরোধ, উপরোধ, খোঁচায়। একদা কার্তিক ঘোষ আমার সহকর্মী ছিলেন, আর শ্রীরামপুরে অগ্রজ অভিভাবক তুল্য শৈলেন কুমার দত্ত ছড়া লেখেন, পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখতে গিয়ে বারুইপাড়ায় দীপ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে আচমকা আলাপ হয়ে গেল — এঁদের সূত্রে যাঁরা ছড়া লেখেন, আর যাঁরা ছোটোদের লেখালিখি করেন, এমন কিছু মানুষের সঙ্গে আমার আলাপ হয়ে যায়। রূপক চট্টরাজ, অপূর্ব দত্ত আরও কতজনের সঙ্গে। এঁদের সূত্রেই ইতিউতি এ পত্রিকা সে পত্রিকায় আর আজকাল-এর খেলা পত্রিকায় শারদ সংখ্যায় ছড়া লিখি — সে আর কী এমন!
ও মা, একদিন দূরদর্শনে দেখি ঘাড় পর্যন্ত চুল হাসি হাসি মুখে একটা লোক ইন্টারভিউ দিচ্ছেন শিশুসাহিত্যে বড়োসড়ো এক পুরস্কার প্রাপ্তিতে, হেসে হেসে বললেন, “মৃদুলকে, মৃদুল দাশগুপ্তকে পুরস্কার দেওয়া উচিত।” — ইনিই সরল দে!
নতমস্তকে একদিন দেখা করতে গেলাম, একে শুধিয়ে ওকে শুধিয়ে, ওঁকে চেনেন এমন একজনকে সঙ্গী করে গেলাম সরলদার বাড়ি। সে বাড়ি যাঁদের, সেই সেনগুপ্তদের সবাইকে ডেকে, প্রতিবেশীদের ডেকে হই হই বাধিয়ে দিলেন সরলদা — “দ্যাখো দ্যাখো কে এসেছে!” দুনিয়া না মানুক, ছড়ার রাজা আমাকে কবির মর্যাদা দিলেন। বললেন, “কবি তো, সব সময় ছড়া লিখতে ওর ইচ্ছে করে না।” অধুনালুপ্ত ‘সকাল’ পত্রিকায় একটা কাহিনি লিখেছিলাম, দেওয়ালে দেওয়ালে ছড়া লিখে দেওয়া একটা বিদঘুটে লোকের কাহিনি। ‘সকাল’ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরলদা ওই ধারাবাহিক টগবগ-এ ছাপতে লাগলেন।
বেলুড়ের ওই গলি, এঁকেবেঁকে যাওয়া গলি, যেখানে পতিতপাবণ পাঠক থাকতেন, তার লাগোয়া সরলদার বাড়ি। বছরে একবার দুবার যেতামই, কিন্তু অনবরত মনে হত যাই, যাই। অনেক বছর যাইনি। এখনও যেতে ইচ্ছে হচ্ছে যে।

স্কেচ – সুমিত রায়

To Top